বেণু মাহাত * দুটি কবিতা
অবগাহন
ও নদী, আমাকে ভাসাও
তরঙ্গ বরাদ্দ রেখে ।
দুলে দুলে উঠবো ঢেউয়ে,
বুক পেতে দাও
ঝরে পড়া রোদে আঁকিয়ে নেব কলমিলতার উচ্ছ্বাস ।
চোখের ভেতর গোটা আকাশ
বিহ্বলতায় ঢেকেছি ;
পৌঁছে গেছি কোটরে কোটরে
হাতড়ে বের করেছি একেকটি নক্ষত্রের আলো!
উপলব্ধির ছলনায়...
সে তো বাঁশি ;
কবেকার ঘৃণা ধুয়ে পবিত্র আগুন হাতে ,
এ কার প্রচেষ্টায়?
সব শাপ গিলেও
নবজাতকের গন্ধ গায়ে মেখে
বাবুই পাখির মতো ঘর বুনে যাই যত্নে
অথচ ঘর কই?
ঢেউয়ে ঢেউয়ে উপচে আসে শব্দ,
সবগুলো তুলে ছেঁকে নিতে পারি কই?
কতক তলিয়ে যায়, কতক বা পাক খায়
মোচড় দেয়
কে যেন মনে মনে ক্ষমা করে দেয় !
আলো খুঁড়ে খুঁড়ে মৃত্যুর খোঁজাখুঁজি
নাকি মৃত্যু খুঁড়তে খুঁড়তে আলোর খোঁজে?
কোনটা?
যেভাবে সবুজ ধানে সোনালী রঙ ছড়ায় ,
পেকে ওঠে শীষ; আর
চাষীর ঘরে জন্ম নেয় ঈশ্বর !
প্রতিবিম্ব
১.
সমুদ্রের মত আকাশ
মেঘেদের ঢেউ;
জল ভেবে
কল্পনায় কতবার পা ভিজিয়েছি,
বাড়ি ফেরার গন্ধে ব্যাকুল হইনি
এমনকি
চোখে চোখ রেখে মরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা এখনও জন্মায়নি,
সহস্র গ্রীষ্মে পাহাড় মূর্ছা যাক,
এ গহীন রাত্রির মত ভালোবাসা ঠোঁটে গুঁজে দাও
২.
সব বিষাদ তুচ্ছ,
আমার সহজ ব্যাখ্যারা সব মরে যায়
কেবলই মনের নিনাদে
ভরে ওঠে বৈরাবাঁকি নদী ।
অদেখা বিকেল ফুরিয়ে যায় ,
আমার চোখে দায়বদ্ধতা আঁকো
শীতের ভোরের মত ঠোঁট কাঁপে
শীতল নোনাস্রোতে ডুবে যায় সব গোপনীয়তা
৩.
নিছকই শব্দ কষা
মায়া মায়া আলোয়
ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ বাহু হারায়
উচ্ছেদ হয়ে যায় নিংড়ানো সব ভালোবাসা
ডুবে যায় আলো
ডুবে যাই আমরাও, অতলে
এক টুকরো সভ্যতার নমুনা পড়ে থাকে ফর্মালিনের বয়ামে।
ফিরে যেতে হবে বলে যে বিকেল ফুরিয়ে যায়
সেও তো আগামীর স্বপ্ন আঁকে নক্ষত্রের নীচে
থিতু হয়ে আসে জল ...
********************************************************************
বেণু মাহাত
জন্ম ১৯৯৯ সালের ২১ শে জুন বাঁকুড়া জেলার 'পুনশ্যা' গ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে বিভিন্ন ছোটখাটো পত্রিকার হাত ধরে এগিয়ে চলা। প্রথম প্রকাশিত এক ফর্মা র কাব্যগ্রন্থ "শাল ফুলের নোলক ও অন্যান্য কবিতা"।
**********************************************************************



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন