উৎপলেন্দু পাল * দুটি কবিতা
দাগ
অবান্তর শব্দমালায় জপি কবিতার বীজমন্ত্র
নেই কোনো শান্ত দীক্ষান্ত উপসংহার
চন্দ্রাহত যাপনে ভোঁতামুখ কবিতার অভিমুখ
আয়ুরেখা ঢেকে রাখে ভুঁইফোড় জন্মদাগ,
সাদা কাগজে মার্জিনের পাশে গজানো উলু ঘাস
গড়ে তোলে আঁতেলের গুপ্ত উপনিবেশ
অতৃপ্ত বর্ণমালায় আঁচড়ে খামচে লিখি রোজ তবুও
কোথ্থাও নেই কবিতা যাপনের কোনো দাগ।
আর একটা লাশের অপেক্ষায়
একটা রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে দরজায়
তাঁর আর আমার মধ্যে সুক্ষ্ম পর্দার ব্যবধান
নৃশংসতার দাগ লেগে থাকা নিমিলিত চোখে
সে চেয়ে আছে আমার নপুংসকতার প্রতিরূপে
যদি কোনো দমকা বাতাস উড়িয়ে দেয় সে পর্দা
উলঙ্গ হয়ে যাবো পুরুষত্বের যাবতীয় আয়ুধ সহ।
একটা লাশ পড়ে আছে আমার ঘরেও
তার গোপনাঙ্গে কাহাদের সম্মিলিত বীর্যস্খলন
সব জানলেও সবাই চুপচাপ জলজ প্রতিবিম্ব
শিরদাঁড়ার অস্তিত্ব সন্ধানী গল্পে মশগুল
হয়তো সবাই অপেক্ষার প্রহর গোনে প্রতিরাতে
কখন আরেকটা লাশ পড়বে তার দরজায়।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে কলেজে পড়ার সময় লেখালেখি শুরু। কলেজ ম্যাগ, দেওয়াল পত্রিকা, শিক্ষক শিক্ষণ সংস্থার মুখপত্র, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংস্থার দেওয়াল পত্রিকায় লেখালেখি। তারপর কর্মজীবনে প্রবেশের পর তা ক্রমশঃ বন্ধ হয়ে যায়। পুরোনো বন্ধুদের উৎসাহে আবার ফিরে আসা ২০১৮ সালে। ফেসবুক সহ বাংলা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রচুর লেখা প্রকাশিত। বাংলা একাডেমী সহ বিভিন্ন সংস্থায় কবিতা পাঠ করে প্রসংশিত। শিক্ষকতা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের ফাঁকে লেখালেখি। একমাত্র প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ 'মনের উড়ান '। প্রকাশক 'নবলিপি প্রকাশন', কোচবিহার। কোচবিহার শহরেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা ও বসবাস। আগামী দিনে একটি মনের মতো কবিতা লেখার অপেক্ষায় সাহিত্য চর্চা চলবে।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন