মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

কৌশিক সেন





মৃন্ময়ী

কৌশিক সেন 


মাটির গাভিন মেয়ে, বোধোদয়ে মাংস নাই কোনো

দেবতা নিষেকে বাঁধা, তমোগুণে এ কাহিনী শোনো।

ব্রজরুচি কারুশিলা, মিলায়ে গিয়াছে কাঁথাকানি

ঈশ্বরী মরীচিকা, কুপিশিখা হলে রাহাজানি।

স্থানীয় মানুষ জানে উজানে রয়েছে এই গাথা

মাটির হরিণী সেও, দংশনে খসে পড়ে মাথা।

ইথারে আতর বহে, পাথরের মত দুটি চোখ

মিথিলায় দাবানল, ব্যথা পেলে চণ্ড অশোক

শুকতারা জানে তার, ঘ্রাণে তার কতটুকু বাস

মাটির সুচারু মেয়ে, একাকিনী বিপুলা প্রবাস।

কুলিনে বিলীন মেঘ, বেগবতী গোদাবরী নদী’

নিভন্ত দেয়াল জুড়ে ফুটে ওঠে ছবি নিরবধি।

সে ছবি কবিতা নয়, বেদনার মত মধুমালা

বাম হাতে রোশনাই, দক্ষিণে বিধুরজবালা।

ক্ষয়ে যায় পটভূমি, নুয়ে নুয়ে পড়ে গুরুভারে

মাটির মানুষী গড়া কামনায়, আমিষ খাবারে।

রবিবারে রোগ ছিল, পলিমাটি জমে থাকে বুধে

বাড়ন্ত নারীর সেবা, পথ্যে ও নিত্য ওষুধে

ও মাটি বাড়িছে নিতি, প্রীতি আর প্রণয়ের দামে

মাঠের জারুলবীথি ভরে যায় ঠোঙার বাদামে।

এ মাটি জমাট বাঁধে, কাঁধে নেয় পৃথুল সে নর

কাটিয়ে দিলে ও দিন, বেদবাক্য এখনও অনড়

ত্রিনয়নে বিষ জমে, শয়নে স্বপনে জাগে ভ্রম

এই পথে হেঁটে দেখি, কিছু নয়, কাঠের খড়ম।

মাটির ভিতরে জাগে অভিমান, প্রণয়ের দান

এ মাটিতে পরিপাটি, সাঁটিয়ে দিয়েছি সমাধান।


মাংসে রক্তে স্মৃতি, রীতিমতো শতভিষা তারা

আমার দোয়াব থেকে খসে পড়ে ব্যর্থ পাতারা

চবুতরা রোদে ভেজে, সেজে ওঠে মাটিময় দ্রাব

নিকানো আঙিনা জুড়ে ফুঁড়ে ওঠে দেবীর খোয়াব।


খোয়াবে বেঁধেছি প্রাণ, সারা গায়ে মেখে নিই মাটি

এ বড় পুণ্যলাভ, সাজিয়ে রেখেছি প্রতিমাটি।।












*****************************************************************************

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন