মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

তাপস কুমার দে






তাপস কুমার দে * দুটি কবিতা 

হাওয়া বদল 


ধুলোর গায়ে লৌকিকতা লেগে গেছে

ফিরে গেছে অযাচিত মেঘ

হাওয়া ফিরতে পারে কোনো বৈশাখে 


লুটপাটের দিনগুলি যুদ্ধ যুদ্ধ

উপলব্ধির লালচে মর্মরে তৃষ্ণার্ত রং

দৃষ্টি ভেজা

পাঁজর বেরিয়ে এসেছে 

খশে পড়েছে চিরদিনের সবুজ মাংস 


টোকায় টোকায় কান্নার সুর বেজে যাচ্ছে 

বেদনায় চোখগুলো দৃষ্টি মুছে ফেলছে

বোঝা যাচ্ছে মাটিতে হলুদ জন্মেছে


একটা নির্জনতা গলে পড়েছে  

ভেসে গেছে কিছু মানুষ 

কোনো বিষাক্ত কাঁটার জটিল ইশারা যেটা

হয়তো একটা কুয়োর কান্নার মধ্যে কাঠের চিত্রকলা খোদাই হচ্ছে 


পোকা নড়ছে

হাওয়া বদলের সময় ঋতু জন্মানো পোকা


পাখি পাখি জানালা

মাটি ক্ষয়ের ধোঁয়া 

ঘুম জমানো ভাঁজ পত্র 

শেকড় গজিয়ে ওঠা বীজ পাত্রে শুরু হয়েছে জন্মান্তরের খেলা


রোদ্দুর ভাঙা পিতলের অস্ত্র ছিল উপমার ঘরে


বারুদ মুখো দেশ

ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম থেকে বেরিয়ে আসছে হিংসাত্মক নামতা

অশ্রুর দেনা নিয়ে হাঁটছে কুঁজো পৃথিবী।।











মহাকাব্যের জন্ম


মৃত্যু এসেছিল জলে পড়া ছন্দে

অন্ধকার জড়িয়ে মিলিয়ে যায় অবাক ঢেউ 

শুধু অভিনেতা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল গল্পবলা  আকাশ


ঘন্টা বাজালো 

ঘড়ি ঘরের জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেল পাখি


বিকেল উড়িয়ে ছুটে এলো কৌতুহলি চারপাশ 

সমুদ্রের বুকে গুমরে ওঠা নীল আলো 

স্মৃতি কাতর মেঘমেঘ কিছু কুয়াশা দৃষ্টির ডানায়  নেমে এলো 


একটু আলোর জন্য তখনও সাঁতারে বেড়াচ্ছে ব্যঞ্জনার বিলাপ


রঙ আর রূপের সেই খেলায় ঠোঁট কেঁপে ওঠা মায়া

আরও একটি তারাকে খসে পড়তে দেখে

আরও একটি শূন্যস্থান 

বুকের মধ্যে ঝুঁকে পড়ে ধূধূ প্রান্তরের ক্ষত 


তারপর চোখের সমুদ্রে বরফ জমলো

বরফের ভেতর অশ্রুর শবদেহ 

মনে হলো ওখানে কেউ বৃষ্টি হয়ে বেঁচে থাকলো


আর আজন্মকাল যাঁরা বারবার জন্মেছে তাঁদের নিয়ে লেখা হচ্ছে মহাকাব্য।।













**************************************************************


তাপস কুমার দে 

 লেখালিখি শুরু--সেই স্কুল জীবন থেকে লেখালেখির হাতেখড়ি। 
 স্কুল জীবন থেকে বিভিন্ন রকম গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে এটা প্রবল হয় যখন আমার এক সহপাঠী বিভিন্ন রকম বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেই কারণ সে পাঠাগার গড়ে তুলবে। আর এ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করতে গেলে একটি বই দিয়ে অংশ গ্রহণ  করতে হবে। আমি অংশ গ্রহন করলাম এবং গল্প পড়তে পড়তে লেখার ইচ্ছে জাগে এবং একটি গল্প লিখেও ফেলি ওটাই আমার প্রথম লেখা। 
প্রভাব সৃষ্টিকারী লেখক অথবা কার কার লেখা পড়তে ভালো লাগে---- আমি যখন বেড়ে উঠি তখন হুমায়ুন আহমেদের যুগ তারপরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্রের মতো লেখকদের লেখা ভালো লাগার তালিকায় উঠে আসে। 
আমি কেনো লিখি---- আত্মতুষ্টির জন্য খানিকটা তারচেয়ে বড়ো ব্যপার হলো মনুষ্যত্ব বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ যে সাহিত্য, তা নিজেকে ও সমাজকে বুঝাতে। যার ভেতর রয়েছে মহাজাগতিক আনন্দ। 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের  পদক্ষেপ ---- লেখালেখির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে নিজের বই প্রকাশ করার আপ্রাণ চেষ্টা আর সেই লক্ষ্যে পান্ডুলিপির কাজ চলমান।  
 বেশকটি সাহিত্য সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম তার মধ্যে অন্যতম খুলনা সাহিত্য মজলিস,  খুলনা কালচারাল সেন্টার। এখনও সম্পৃক্ত আছি খুলনা কালচারাল সেন্টারর সাথে।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন