কবিতাগুচ্ছ * সৌম্য ঘোষ
অন্যপথ
স্তব্ধতার কথাগুলো কীভাবে প্রতিদিন অতিক্রম করে যেতে
হয়, সেকথা
সবাই অল্পবিস্তর জানি;
জানি স্বপ্নের ভেতর কীভাবে এক নির্ভার স্বপ্ন
বীজ বপন করে চলে,
অন্ধকারের নিজস্ব আলো এসে পড়ে
আমার সমস্ত উঠান জুড়ে!
আঁধারের ক্ষীণ রেখা পেরিয়ে যায় খড়ির গন্ডি
বুকের ভেতর নিরন্তর ভাসানের বাজনা।
একান্ত কোনো দেওয়াল নেই যেখানে
আঁকতে পারি তুষারমৌলি কাঞ্চনজঙ্ঘা,
কিংবা নিরালা এক প্রেমিক বারান্দা।
হয়তো কোনো একদিন নির্মিত হবে
হয়তো তখন যাবতীয় কুয়াশা ও বিষণ্ণতার
সাঁকো পেরিয়ে আমি অন্যপথে...।।
অসমাপ্ত কবিতা
আমাদের গল্পটা শেষ হয়নি—
শুধু থেমে গেছে মাঝপথে।
যেমন হঠাৎ বৃষ্টি থেমে গেলে
মাটির সোঁদা গন্ধটা থেকে যায়।
তুমিও রয়ে গেছো—
আমার প্রতিটা অসমাপ্ত লাইনে।
জলের বুদবুদ
অসমাপ্ত কবিতার উপর পোস্ত দানার মতো
ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শব্দের কোমল কুঁড়ি।
কবিতার কাছে সোহাগ চায়
শব্দ কি এতই সক্ষম যে নিজেরাই
সাজিয়ে বসবে পংক্তি ভোজনে !
কলাপাতায় নৈবেদ্য রাখি
ধূপ জ্বালি, ফুলে দিই চন্দনের ছিটে
আর আতরের গন্ধে ঈশ্বরের
আগমন ঘটে যায়-- ঘটাতে চাই বলে
শ্যাওলাওঠা পুরানো বাড়িটায় গায়ে জন্মানো
বটের শিশু জানে না তার জন্ম ইতিহাস!
শুধু কবি জানে লক্ষ্মীর ঝাঁপি ও বাস্তুসাপের গর্ত
ঠিক কোথায় কোথায়--
যদি দক্ষিণের কক্ষ খুলে দাও আঁচলের চাবি দিয়ে, নতুন শব্দ জন্ম নেবে।
জন্মানোটাই ইতিহাস,
বাকি সব জলের বুদবুদ..
দেখা হয়নি
নদীর কাছে গিয়েছিলাম।
কারো সঙ্গে দেখা হয়নি,
না নদী,না নৌকা, না মৎস্যগন্ধা কোনো বালিকা
দুপুরের জরায়ু থেকে জন্ম নিচ্ছে কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বিকেল।
নদীপাড়ে একরত্তি চায়ের দোকান
বাতাসের ভাঁজে ভাঁজে ধোঁয়া ওড়ায়
চায়ের দোকানে কারো সাথে দেখা হয়নি।
নদীচর পার হতে হতে ফুরিয়ে যায় অর্ধেক জীবন
হলুদ পাতাবর্ণ নিমগ্ন সন্ধ্যায় ছাতিমের গন্ধ
এমন বিক্ষত সন্ধ্যা আমার কখনো দেখা হয়নি,
কেননা কোনো নদীর সঙ্গেই আমার দেখা হয়নি।।
***************************************************************************
কলেজ জীবন থেকে লেখালিখির হাতেখড়ি। একসময় একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ ও সম্পাদনা। পেশা অধ্যাপনা। বর্তমানে সদ্য অবসর প্রাপ্ত। দেশে ও বিদেশে বহু পত্রিকায় লেখালিখি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি। হুগলী জেলার সদর শহর চুঁচুড়ার বাসিন্দা।।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন