মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

সন্দীপ ঘোষ




সন্দীপ ঘোষ * দুটি কবিতা 

ক্ষত


সেপ্টেম্বরে অগোচরেই জন্ম নিয়েছিল আমার ক্ষত,

বড়দিনের রোদঝলমলে সকালে লাগিয়েছিলে নুনের প্রলেপ।

প্রলেপ পড়তেই দেখলাম ক্ষতস্থানে আবর্জনার স্তূপ।

গা গুলিয়ে উঠেছিল, চেষ্টা করেছি ভুলে যাওয়ার।

ভাবছি পবিত্র স্পর্শ, আড়ালে ছিল স্বার্থসুখ। 

তুমি বড়ই সাদাসিধে, জানি তুমি নির্দোষ,

সপ্তদশীর কিবা করার থাকে ওষ্ঠসুখ পেলে!


পঁচিশে ডিসেম্বরের সকালে ময়দানে দাবি করেছিলে আবার,

আমি আড়ষ্টতার পরকাষ্ঠায় ঝুলে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।

ঝটিতি  কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিয়েছিলে সেইদিন।

রবীন্দ্রসদন থেকে ফুটপাত ছেড়ে ফিরে ছিলে

মেন রাস্তায়, বুঝিনি তোমার শরীরী ভাষা।

দৃশ্যতে আমার বুকের পাঁজর হয়েছিল মরুভূমি।


ফিরে ছিলে হোস্টেলে বুকভরা কান্না নিয়ে, 

যাক বাবা বাঁচা গেল- ভেবেছিলাম বাঁচলাম,

অন্তঃপুরের ক্ষত আজ বড্ড জ্বালিয়ে মারে।




            









শেষ বিকেলের স্বপ্নে


পথশিশু জন্ম নেয়

পথের ঠিকানাতে,

শেষ বিকেলের স্বপ্নে

মেলে একমুঠো মুড়ি।


কেন যে এমন হয়!

খবর কেউ কি রাখে?

সাত বছরের বালিকার স্বপ্ন

একটা একটা মুড়ি,

সুখ এনে দেয় সপ্নের প্রাচুর্য্যের।


রামবাবুর ছয় বছরের মেয়ে

রঙিন সপ্নে বিভোর থাকে 

পুতুলসাথী কিংবা খেলার মাঠে,

উৎফুল্লের ফুলঝুরি ওড়ায়,

তার স্বপ্নবিকাশ প্রবহমান।


প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তাড়িত

অভুক্ত রুগ্নশরীর জীবন বাজি রেখে

ব্যস্ত রাস্তার ভিড়ে অন্ন খোঁজে

শেষ বিকেলের স্বপ্নেও।




***********************************************************************************************




     সন্দীপ ঘোষ


জন্ম-06/01/1975, তালডাংরা, বাঁকুড়া থেকে লিখছেন।  বানিজ্যে স্নাতক । ছাত্র বয়স থেকেই লেখার নেশা। তবে, প্রকৃত লেখালেখি শুরু বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ পত্রের পাঠকের কলম বিভাগে । রেডিও -টিভিতে চিঠি পাঠানোর অদম্য নেশা । জীবনের টানাপোড়েনে সাময়িক বিরতি । 2016'সালে দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় পাঠকের কলম বিভাগে আবার লেখা শুরু। প্রথম গল্প প্রকাশ পায় বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া থেকে প্রকাশিত ছোটদের জন্য 'সেতু জুনিয়ার 4 ' গল্প সংকলনে, গল্পের নাম 'পাঁচু দাদুর বাগান'। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প-কবিতা- প্রবন্ধ প্রকাশ। ভালো বাসেন নিজের লেখা গানে সুর করতে ।

             

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন