কবিতাগুচ্ছ * বাবলু সরকার
মৃধা
১.
গোপনে দাঁড়িয়েছো!
নদী কতটা জল নিয়ে যায়
তার নিম্ন প্রবাহে!
আহা! নদীর ধর্মই তো
নিম্নে টানা!
কিন্তু আমি তো নদী নই
নদীর ধারে পড়ে থাকা
বালির মতো বলতে পারো
অথবা বালিয়াড়ি
যে তোমার জলের সমস্ত দূষণ
এলিমেন্ট কে শুষে নিয়ে
স্বচ্ছতা প্রদান করছে নিয়ত।
২.
বাঁশের মতো
আকাশ ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল আলো
অধম ভোরের হাওয়া
আলো মাপতে মাপতে
কখন যে উঠোন পেরিয়ে
আমার ঘরে এসে প্রবেশ করেছে
ঘুম ;ঘুমে অচৈতন্য ওরা তখন
পাখির স্বপ্ন দেখতে দেখতে
আকাশ ডিঙোচ্ছে
আর আমি বাঁশের পরিধি ধরে
ওদের ডিঙোনো পথ দেখছি
৩.
ছাদ বাগানে রোদ্দুর
টপ টপ করে ঘাম ফেলছে
প্রিয় নোয়ানো পাতা
ওর মুখের দিকে তাকিয়ে
রোদ খেয়ে নিচ্ছে উল্লাসে
প্রেমে পড়া এক শর্ট পিস
কখন থেকে লোভ দেখিয়ে দেখিয়ে
এই মাত্র ছাদ ডিঙিয়ে
রোদের ভিতর মিশে গেল
৪.
ছোট্ট একটা প্যান্টি
সেটা খুলতেই
বেশ কটা যুগ কেটে গেল
অথচ কত সামান্য দূরত্ব
হাত বাড়ালেই শুধু খোলাই নয়
টেনে হিঁচড়ে সারা অরণ্যময়
ঘোড়ানো যেত
আর কত কত লজ্জা
তার নাভি থেকে জামা টা
সরাতেই পারলো না
পারলো না একটা ছোট্ট বেধের
ইলাস্টিক কে খানিকটা ঢিলা করে
নীচে নামিয়ে দিতে
আর উন্মুক্ত প্রকৃতি কে
আরেক প্রকৃতির দরবারে হাজির করতে
৫.
ফুলের মতো কী!নাকি তার থেকেও
যা কিছু সুন্দর আছে তাই!
আমি যখন ওদের মধ্যিখানে গিয়ে বসি
তখন আমার চারপাশে কোরান বাইবেল গীতা সব মিলেমিশে এক স্বর্গীয় সুবাসের আবহ ছড়িয়ে পড়ে
আর আমিও
এক স্বর্গীয় মোহময় আচ্ছন্নতায়
শেখাতে থাকি সেই সব পঙতি পয়ার
যা স্বর্গ থেকে অতি পবিত্রতায়
টুপ টুপ করে পড়তে থাকে ওদের মাথায়
অঙ্কুর অরণ্য দেবদত্ত আর সোমা তিথিরা তখন পবিত্র পুজোর ফুল একেকটা
৬.
সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে
পুব পানে যাচ্ছিল সে
চাঁদের মতো আলোক ছড়িয়ে
ভিখারিগুলো কে পিছনে ফেলে
ছুটছিল সে তারার কাছে
না কোন প্রেমিক ;না কোন প্রেমিকা
প্রখর রোদে পোড়েনি আজ
শুধু এক লালনই বসে ছিল
তার মুখের দিকে তাকিয়ে
কখন তার মুখ, কখন তার গাল
বাড়িয়ে দেবে সূর্যের কাছে পুড়তে
***********************************************************************


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন