মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

গৌতম কুমার গুপ্ত



 


গৌতম কুমার গুপ্ত * দুটি কবিতা 


প্রলয় 


শরীরের সমস্ত বোতাম খুলে

যখন অবগাহনে নামল নদী

জ্যোৎস্না গুটিয়ে নিয়েছে পোশাক

কোথাও অশ্লীল শব্দ হচ্ছিল

আশ্লেষ জিভে সালসা বিনিময়।


সুডৌল তিল গ্রথিত থুতনিতে

ফুটে উঠল অহংকার

চেটেপুটে খেয়ে নিল অমৃত ও গরল

উদগ্রীব আলজিভে গোঙানি

এখন সময় যুদ্ধবিরামের।


বোতামের দায় দায়িত্বে

শরীরের শ্লীল ভাষাসংযম

আরোহ অবরোহ তর্জমায়

উন্মত্ত সামাজিক কলরব

সময় সময়কে শ্রীসর্বস্ব করে রাখে।













দৃশ্য শব্দ গন্ধ


একটা অদ্ভুত আওয়াজ তৈরি হচ্ছে

আমিষের গন্ধ আওযাজে

নিরন্নের মতো হাহাকার

টের পাচ্ছি ফুসফুসে দীর্ঘশ্বাসের বাতাস

আমাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে বজ্রাহত পরাজয়


একটা অদ্ভুত আওয়াজ তৈরি হচ্ছে

বারুদের গন্ধ আওয়াজে

আগুনের মতো দহন

টের পাচ্ছি হৃদপিন্ডে প্রগাঢ় আবহ

আমাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে লৌহশলাকার সমর্পন।


আওয়াজের পিছু পিছু কিসের নিশিডাকে

ছুটে যাই নির্ণয়ের  শূন্য শব্দালোকে













**********************************************************************************




গৌতম কুমার গুপ্ত

জন্ম  ১৩৬৭ বঙ্গাব্দে বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া থানার গোপালনগর গ্রামে।বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের বাসিন্দা।প্রথম জীবনে সাংবাদিকতা পরে ই সি এলে কেন্দা এরিয়া বিভাগের কর্মী ছিলেন।২০১৯ সালে চাকুরিজীবন থেকে অবসর গ্রহন করেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগে স্নাতক।পরে পার্সোনাল ম্য্যানেজমেন্ট ইনডাসট্রিয়াল রিলেশনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখি শুরু।'কালকেতু' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তো বটেই ওয়েব ম্যাগাজিনেও গল্প কবিতা প্রবন্ধ লিখে থাকেন।এ পর্যন্ত তাঁর চারটি কাব্যগ্রন্থ  " সময়ের এই জলসাঘরে,'স্বভাবের সিলেবাস','অক্ষর ভাইরাস' এবং 'বিষুবরেখার পাখি' প্রকাশিত হয়েছে।কয়েকটি নাটকও  লিখেছেন। ইতিমধ্যে "কয়লাক্ষেত্র "এবং কৃষ্ণগহ্বর নামে দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।।শীঘ্র একটি কাব্যগ্রন্থ 'যদি হৃদয়ের কথা বলো'প্রকাশিত হতে চলেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন