মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

গুচ্ছ কবিতা * রতন পালিত


 


কবিতাগুচ্ছ * রতন পালিত 

জৈব সৈকতে মোমের আলো


১.

ধূসর কানা পথে পাড়ি। আলোহীন। তার নাগাল পেতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সেই অভুক্ত মাছ-পাখি। দিনের প্রান্তে নিরালার বোদ্ধা বাতাস ঘুমোতে দিয়েছে তাকে ক্ষণিকের। বানের বেগে ছুটে আসছিল সে মোহনা অভিমূখে। আগমনের আগাম আভাসে কী নিপুণ অছিলায় নাগালের সুদূরে সরে যায় তার সেই আকাঙ্খার মোহনা। রূপসী ঝড়ের হাওয়ায়, সবুজ ওড়নার মতো শরীর দুলিয়ে।


২.

মেঘ কাটে। দামাল স্বপ্নে হীরক দ্যুতি ফিরে আসে। তাকে দেখতে পায় উজলা পরীর রঙের বাহারে। ডানা মেলে নেমে আসছে সৈকতের মোম বিছানো খোলা উদ্যানে। তার ঠোঁটের রঙে আকাশ ওঠেছে রেঙে। নিঃশব্দ। অবিচল মাছ-পাখি। স্ব-লালসায় ছুঁড়ে ফেলে নিঝুম রাতের ঘুম। বাসনার তপ্ত উল্লাসে সময়ের আগেই রোদ নামে প্রশস্ত মোমের মোহনায়। 


৩.

একটার পর একটা সোনালী ঢেউ। আছড়ে পড়ে মোহনার বুকে। বাতাস দুলছে। প্রশস্ত মোহনা।  আলোয় মেলে ধরা তার গাঢ় উপত্যকা বাহার। দীর্ঘ চাপা নিঃশ্বাসে লাজুক অপেক্ষা। জলে মলিন ছায়া। শরীর দুলছে তরঙ্গ তালে। ফেনিল বেলাভূমি। স্তব্ধ। অকৃপণ আলো পড়ে জীবন্ত ঝাউ গাছে। ভোরের আলো এসে দেখে - হলুদ পাতার মতো বিছিয়ে পড়ে রয়েছে তার মোমের আহ্লাদ। 


৪.

কত না-বলা কথা রয়ে যায় হলুদ পাতার শিরায়। নীরব প্রশ্রয়ে তার বুকে কান পাতে মাছ-পাখি। সবুজ শব্দের কিলবিল। সাংকেতিক। ধুক-পুক করে বিদীর্ণ বুক। আঙুল ইশারা। আঁচল সরিয়ে পথ এঁকে দেয় মোহনা, ভেজা বালুকার শরীর নিশানায়। গভীর জলাশয়। তোলপাড় তোলে। ক্লান্ত মোহনার দু'চোখের পাতা নিরালায় তৃপ্ত অন্ধকার খোঁজে শুধু। বালুকণার জৈব সৈকতে রজনীগন্ধার কোমল সৌরভ আছড়ায়।


৫.

চিক্ চিক্ করে ওঠে মোহনার রং। দমকা শ্বাস। থেমে আসে প্রাণ। সমর্পন পলে সে তখন জাপটে ধরে সূর্যের দামাল আভা...




**********************************************************************************************************




                       রতন পালিত

কবিতা মননে, চিন্তনে। স্কুল জীবন থেকে। প্রথম প্রকাশিত কবিতা ১৯৮৩ সাল, স্কুল ম্যাগাজিনে।  তারপর বিভিন্ন জনের আবদারে অনেক লেখা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয়  পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ। কবিতার পাশাপাশি গল্প, অনুগল্প। মাঝে কয়েক বছরের ছেদ। বর্তমানে নিয়মিত চর্চায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন