জীবনবোধ : ৪
প্রবীর কুমার চৌধুরী
আয়নার ভেতর আজও আমার অনুপস্থিতিরই মুখচ্ছবি ঝুলে
আছে।
জন্ম কেবল একটি দরজা, প্রবেশ করে অনন্তের ঋণ।
প্রতিটি শ্বাস সময়ের অদৃশ্য আদালতে সাক্ষ্য দেয়
মাটির নিচে শিকড়েরা অন্ধকারের সঙ্গে গোপন চুক্তি লেখে।
সূর্য প্রতিদিন নিজের দহনকে আলো বলে প্রচার করে।
নদী জানে, তীর আসলে জলের দীর্ঘ সংশয়।
ভাষা যত বড় হয়, নীরবতা তত গভীর হয়ে ওঠে।
আমি প্রতিদিন নিজের ছায়ার কাছেই নির্বাসন চাই।
বিবেক এক অনিদ্র বৃক্ষ-
পাতাগুলো প্রশ্নে ভরে থাকে।
পৃথিবী মানুষের নয়, মানুষের অপেক্ষার আরেক নাম।
ক্ষয়ই সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভাস্কর।
ভালোবাসা কখনও অধিকার নয়, অব্যক্ত দূরত্বের স্থাপত্য।
ঘুমেরও একটি ইতিহাস আছে, কেউ পড়ে না।
মৃত্যুর আগে প্রতিটি মানুষ একটু করে অদৃশ্য হতে শেখে।
অন্ধকার কখনও আলোকে হত্যা করে না, জন্ম দেয়।
শূন্যতা একমাত্র সম্পদ, যা হারিয়ে যায় না।
প্রতিটি বিদায় ভবিষ্যতের একটি অসমাপ্ত সম্ভাষণ।
জীবন অনুবাদহীন পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা।
সময় নিজেরই ছাই দিয়ে ঘড়ি নির্মাণ করে।
আমি কেবল সেই বিরামচিহ্ন, যাকে বাক্য এখনো চিনে উঠতে
পারেনি।
***************************************************************************


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন