মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত ভট্টাচার্য





ধারাবাহিক রহস্য রোমাঞ্চ কাহিনি 

প্রভাত ভট্টাচার্য

পর্ব -11


   ফেরার পথে সূর্য আর অনুজ কথা বলতে বলতে আসছিল। 

   স্যার আপনার প্ল্যান একদম দুর্দান্ত ছিল। অনুজ বলল। 

   আসলে সবাই মিলে একসাথে কাজ করে সবকিছু সম্ভব হয়েছে । আর আপনিও তো দারুন বাহাদুরির পরিচয় দিয়েছেন। 

    এখন আমাদের যেতে হবে আনন্দ স্যারের কাছে। উনি কথা বলবেন বলেছেন। 

    ঠিক আছে, কিন্ত তার আগে একটু চা টা খেয়ে নিলে ভালো হয়। 

    অফ কোর্স। 

    চা টা খেয়ে নিয়ে ওরা গেল আনন্দ কুমারের সাথে দেখা করতে। 

    কনগ্র্যাচুলেশনস স্যার। ইউ হ্যাভ ডান আ গ্রেট জব। বলে উঠলেন উচ্ছ্বসিত আনন্দ কুমার। 

    আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। ওরা সাংঘাতিক কাজ করতে যাচ্ছিল। ওই রোবটগুলোর ক্ষমতা অপরিসীম। তাছাড়াও রাসায়নিক অস্ত্রও রয়েছে ওদের হাতে। ক্ষমতাপাগল লোকজন এসব দিয়ে অনেক কিছুই করতে পারে। হঠাৎ ওদের আক্রমণ করলে অনেক হতাহত তো হতই ,আর হয়ত ওরা এইসব নষ্ট করে ফেলত। এখন এগুলো আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার কাজে লাগতে পারে। 

    হ্যাঁ, একদম ঠিক বলেছেন। ঐ সবকিছু আমরা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করছি। 

    আর ঐ সুপার রোবটটাও। 

    অবশ্যই। আবার আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। 

    এর মধ্যে আবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফোন করলেন। তিনিও প্রচুর ধন্যবাদ জানালেন সূর্যকে। 

    এবারে আনন্দ কুমারের থেকে বিদায় নিয়ে সূর্য চলল তার জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা হোটেলে । ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। একটু বিশ্রাম দরকার। 

     হোটেলের ঘরে বসে সে ফোন করল কৃষ্ণকে। 

    আমার যেন ধড়ে প্রাণ এলো । কৃষ্ণ বলে উঠল। কি চিন্তা যে করছিলাম। আর কেউ কিছু বলতেও পারছে না। যাক, তুমি ঠিক আছো তো  ?

     একদম। জানি তুই খুবই চিন্তা করছিলিস। কিন্ত কোন উপায় ছিল না রে। এতই গোপনীয় ছিল ব্যাপারটা। 

    ফিরছো কবে?

    কালকেই। ওরা ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে রেখেছে । সব কথা গিয়ে বলবো ।

    ঠিক আছে। আর হ্যাঁ, দিদিকে ফোন করে নাও। 

    হ্যাঁ, করছি। 

    এবারে উজ্জ্বয়িনীকে ফোন করল সূর্য। 

    কি ভীষণ চিন্তা করছি আমরা। সব ঠিক আছে তো ?

    সব ঠিক আছে। আমি ভালো আছি। কালকেই কলকাতায় ফিরবো, তখন সবকিছু বলবো। কৃষ্ণর সঙ্গেও কথা হয়েছে ।

    আচ্ছা।  খাওয়াদাওয়া করে নাও। 

   ঠিক আছে, করছি। 

   তারপরে দিদি সৃজাকে ফোন করল। সে এসব কিছুই জানে না। আর কৃষ্ণকেও বারণ করেছিল না জানাতে। জানলে দুশ্চিন্তা করত। 

    কি রে কেমন আছিস? দিদি বলল । কতদিন বাদে কথা হল।  আর শোন,  সামনের মাসে তিয়াশার জন্মদিন। আমি গিয়ে বলবো। চলে আসবি কৃষ্ণ আর উজ্জ্বয়িনীকে নিয়ে। তারা সব ভালো আছে তো  ?

    একদম ঠিক  আছে। আর তিয়াশা, জামাইবাবু সবাই ভালো আছে তো  ?

   সবাই ভালো আছে। 

     ফোন রেখে তারপরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, তার খেয়ালই নেই।


    আজ  ফেরা কলকাতায়। একফাঁকে একটু দিল্লিটা ঘুরে নিলে হত, কিন্ত একা একা আর ভালো লাগছে না। কৃষ্ণকে ছাড়া অভিযান তো বড় একটা হয় না। 

    আজ ভীষণ অলস লাগছে সূর্যের। বিছানা ছেড়ে আর উঠতেই ইচ্ছে করছে না। ঘরেই ব্রেকফাস্ট দিতে বলে দিল সে। 

   একটু পরেই বেল বাজল। 

   অনুজ এসেছে। 

   গুড মর্নিং। 

   গুড মর্নিং। এই একটু দেখা করতে এলাম। 

   দুজনে খানিকক্ষণ কথাবার্তা হল। 

   কলকাতায় এলে আমার বাড়িতে আসবেন। 

   অবশ্যই। ফোন করে নেবো। আমি আগে গিয়েছি কলকাতায়  ।

   আপনার বাড়ি কোথায়?

   বিহারের গয়াতে। । 

    বিখ্যাত জায়গা। 

    গেলে আমাকে বলবেন। 

    ঠিক আছে। 

    আর আপনার এই বিরাট কাজের জন্য আপনি পুরস্কার পাচ্ছেন, আমি জানতে পারলাম। 

    একটু পরে সে বিদায় নিল। 

    এর মধ্যে কৃষ্ণ, উজ্জ্বয়িনী ,দুজনেরই ফোন করা হয়ে গেছে। 

   প্লেনে বসে একটু ঘুম পেয়ে গিয়েছিল। 

   কলকাতায় এয়ারপোর্টে কৃষ্ণ আর উজ্জ্বয়িনী এসেছিল তাকে নিয়ে যেতে। 

    গাড়ি চালাতে চালাতে কৃষ্ণ বলল, আজ আমি নিজে রান্না করেছি। 

    বাঃ, তাই নাকি! বলে উঠল সূর্য। আজ তাহলে জমিয়ে আড্ডা হবে।


 পর্ব 12

সবকিছু সবিস্তারে


     বাড়িতে এসে গুছিয়ে বসার পর কৃষ্ণ বলল, এবারে বলি আজকের মেনু। 

   বল ।

    পোলাও, চিলি চিকেন, ফিশ ফ্রাই, চিংড়ির মালাইকারি, পায়েস। আর দিদি সন্দেশ এনেছে। 

    করেছিস কি  ! এ তো এলাহী আয়োজন। 

    এদিকে উজ্জ্বয়িনীও কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছে। 

     এবারে তাহলে পুরো ব্যাপারটা শোনা যাক 

বলল উজ্জ্বয়িনী ।

    হ্যাঁ, বলছি। বলে কফির কাপ হাতে সূর্য বলতে শুরু করল, 

 ডিফেন্স আর ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে জানতে পারে যে ঐ জায়গায় কোন গোপন পরিকল্পনা চলছে। কিন্ত ব্যাপারটা যে কি,সঠিক বুঝতে পারা যায় না। তখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ওখানে গিয়ে সব অনুসন্ধান করার জন্য। আমার সঙ্গে যায় দক্ষ অফিসার, অনুজ। আমি বিজ্ঞানী সাজি, আর অনুজ হয় কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ। 

     বাঃ তোমার নামডাক তো তাহলে দারুণ। গর্ব হয় তোমার জন্য। কৃষ্ণ বলল। 

   ওসব ছাড়। এখন শোন, অজয় নামে একজন ওখানে ঘাঁটি গেড়ে ছিল । জায়গাটার নাম হুকুমগড়, উত্তরপ্রদেশের এক নির্জন জায়গা কাছেই জঙ্গল। অজয় তার সায়েনন্টিস্ট কাকার বাড়ি আর ল্যাব পেয়েছিল । সেখানে অন্য অনেক কিছুর সাথে কয়েকটা রোবটও ছিল । অজয়ের মাথায় কি যে হয় , সে ভাবে সে দলবল পাকিয়ে নানা জায়গা আক্রমণ করবে আর সবকিছুর অধিপতি হবে। তাই সে রাজামশাই খেতাব নিয়ে কিছু উল্টোপাল্টা লোক জুটিয়ে সবকিছুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। 

    বাবা, এ তো পুরো গল্পের মত। উজ্জ্বয়িনী বলল ।

   অনেকটাই। আর আমি নিজেকে বিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে বললাম যে আমার কাছে এক মারণাস্ত্র  তৈরির ফর্মুলা আছে। সে তাই বিশ্বাস করল । এদিকে আবার যথাসময়ে আবির্ভাব হল সম্রাট অশোকের ।

    সে আবার কোত্থেকে এলো  ? কৃষ্ণ বলল। 

    সে একজন বিজ্ঞানী । কাছেপিঠে ওৎ পেতে ছিল। সে সম্রাট হতে চায়। 

    সে যখন আমাকে ল্যাবে নিয়ে গিয়ে কথা বলছিল,  তখন আমি আর অনুজ স্বমূর্তি ধারণ করি, আর ওদের দুজনকে কাবু করি। তার আগেই আমি পুলিশকে আসার জন্য সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর তো পুলিশ এসে সবাইকে অ্যারেস্ট করল। সরকারের লোক এসে পুরো জায়গাটার দখল নিল ।

    আর ওদের সুপার প্ল্যান ভেস্তে গেল। উজ্জ্বয়িনী বলল। 

     রোমহর্ষক ব্যাপার। তবে তুমি না থাকলে ওরা ওদের কাজ চালিয়ে যেত। ইউ আর দ্য বেস্ট। বলল কৃষ্ণ ।

   একদম ঠিক। উজ্জ্বয়িনী সমর্থন করল তাকে। 

   যাক, এবার তো বেজায় ক্ষিধে পেয়েছে । তোর পোলাও চিলি চিকেন আর সবকিছুর সদ্ব্যবহার করা যাক। 

   নিশ্চয়ই। বলে উঠল কৃষ্ণ।




************************************"**************************************************************




প্রভাত ভট্টাচার্য  

তিনি সব্যসাচী--- এক হাতে সামলান চিকিৎসকের গুরুভার দায়িত্ব আর এক হাতে ফোটান সাহিত্য সৃষ্টির ফুল। দ্য হার্ট, মিশন পসিবল, মাই ডটার, রাজবাড়িতে রক্তপাত , ডিটেক্টিভ সূর্য এবং কবিতা সংকলন - কাগজের মানুষ এবং ফিনিক্স পাখি তাঁর উজ্জ্বল সাহিত্যসৃষ্টি । সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর  তিনটি ভিন্ন ধরনের উপন্যাস - দশভুজা, কাগজের মানুষ ও মায়াবী গ্রাম। এছাড়াও তাঁর আর একটি মনভোলানো সৃষ্টি 'গুহা মানবের ডায়েরি'  




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন