মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

গল্প * পার্থসারথি মহাপাত্র

 




রাস্তা ধারের নলকূপ

পার্থসারথি মহাপাত্র


—'ও ফুচুর মা দেখো না কে যেন নলকূপটার হাতল নাড়ছে। ওটাতে তো আর জল বেরোয় না। তুমি তো জান ওটা বেশ কিছু দিন হলো নষ্ট হয়ে গেছে। বেকার চেষ্টা করছে।' –অসুস্থ গলায় বলে গেটিস।

কোন উত্তর না পাওয়ায় আবার জিজ্ঞাসা করে- 'ফুচুর মা, ও ফুচুর মা তুমি কি আসোনি?' 

উত্তর না পেয়ে স্বগোতক্তি, 'আসেনি'। একটা ঝুলে যাওয়া দড়ির খাটে ছেঁড়া কাঁথা ও ময়লা-বসা মোটা চাদর নিয়ে শুয়ে রয়েছে গেটিস। গেটিস নিজেও জানে না ওকে এই নামটা কে দিল। ওর একটা ভালো নাম আছে কিন্তু সেটা শুধু আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ডের জন্য। কেউ ঐ নামে ডাকে না। সবাই ওকে গেটিস বলেই চেনে। গেটিসের মা বাবা নেই। ওর বয়স যখন আট বছর তখন ছয় মাসের মধ্যে দু'জনেরই জীবনাবসান ঘটে। অভাবের তাড়নায় ও উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় গেটিস অনাথ হয়ে পড়ে। ওর নাম নিয়ে কেউ আদিখ্যেতা দেখায়নি। 


        গেটিস অনাথ হওয়ার পর রাঙা বৌদির দোকানে চা-গ্লাস ধোয়ার কাজ পায়। থাকা, খাওয়া, পরা সুন্দর চলছিল। সারাদিন চা গ্লাস কুড়ানো ও সাবান জল দিয়ে ধোওয়া। মাঝে মাঝে মুখ খিস্তি আবার কখনো হাসিঠাট্টা সবই চলছিল দিব্বি। হঠাৎ এক চায়ের খদ্দের এসে ওলটপালট করে দিল। গেটিসকে বাড়তি টাকার লোভ দেখিয়ে নিজের বাসায় নিয়ে গেল। গ্লাস ধোওয়া চাকর থেকে পরিচারকে পদোন্নতি। মন্দ না।লোকটা সরকারি আমলা। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে কাজ করেন। একা মানুষ। বাঁ হাতের রোজগার বেশি হলে যা হয়। সিগারেট ও মদের অভ্যাস ছিল বেশ। গেটিসকে বেশি পরিশ্রমের কোন কাজ করতে হতো না। সারাদিন শুধু টিভি দেখা। বাসন মাজা ও রান্নার জন্য মাসি ছিল। একে শুধু কাপড় কাচা, মাঝে মাঝে চা করা ও অতিথি আপ্যায়নে সহযোগিতা করতে হতো। অতিথি মানে মদ পানের সঙ্গী। ওদের পোড়া সিগারেট ও মদের এঁটো গ্লাসের মাদকাসক্ত ঘ্রাণে গেটিসের ঘ্রাণেন্দ্রিয় উদ্দীপিত হতো রোজ। অবশেষে এক দিন গেটিসও আসক্ত। পাঁচ বছর পর আমলার বদলির নির্দেশ এলো উত্তরবঙ্গে। গেটিসকে সাথে নিতে চেয়েছিল কিন্তু দূর বলে গেটিস গেল না। 


       কানে ফুচুর মায়ের খালি পায়ে চলার শব্দ শুনতে পেয়ে গেটিস ভাঙ্গা গলায় বলল, 'ফুচুর মা এলে? দেখ না কে যেননলকূপের হাতলটা নাড়ছে, শব্দটা বড্ড কানে লাগে।'

ফুচুর মা বলে, 'কই, কেউ ছিল না, আমি তো এক্ষুনি এলাম। কোন বিচ্ছু ছেলে হয়তো দুষ্টুমি করছিল। চল্ ওঠ্, মুখ ধুয়িয়ে দিই। চা বিস্কুট এনেছি, খেয়ে নে। 


     গেটিস এখন পক্ষাঘাতগ্রস্থ। ফুচুর মা সকাল থেকে রাত অবধি চা ও খাবার ঘর থেকে এনে খাইয়ে দেয়। পরিচর্যাও করে, শুধু পেচ্ছাপ ও পায়খানাটা ফুচুর বাবা এসে করিয়ে দেয়। অবশ্যই নিঃস্বার্থ ভাবে নয়। গেটিসের রেশনটা ওরা তোলে। আর গেটিস গত হলে ওর এই ইন্দিরা আবাসটা দখল নেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ওদের আছে। গেটিসের কোন আপত্তিও নেই, থাকবেই বা কেন। ওর নিকট আত্মীয় বলতে কেউ নেই। এই দূরাবস্থায় অন্য কেউ সেবা করতেও আসেনি। একসময় এই গেটিস অনেক পাংকচার হওয়া জীবনে গতি এনে দিয়েছে। অনেকের অনেক সেবা করেছে কিন্তু আজ তারা কেউ কাছে নেই। 

    ওই আমলা বদলি হয়ে যাওয়ার পর গেটিসের সময় ভালো কাটছিল না। চা দোকানে কাজ করতে আর ইচ্ছে নেই। আসলে এই কয়েক বছরের অনেকটা বড় হয়েছে গেটিস। তাই কোন কাজ না পেয়ে অবশেষে একদিন অ্যাকরামের গাড়ি গ্যারেজে নিযুক্ত হলো। শুধু দুবেলা হোটেলে খাওয়া ছাড়া আর কিছু পেত না। হ্যাঁ পেত ছুট্ গালমন্দ আর মাঝে মধ্যে লাথিও। অ্যাকরাম বলে লাথি সহ্য করতে না পারলে মিস্ত্রি হওয়া যায় না। গ্যারেজের কাজ শেষে সন্ধ্যে হলেই গেটিস মদ বারের দুয়ারে মন্দিরের ভিকারীর মতো দাঁড়িয়ে থাকতো। কারও কারও বোতলে একটু আধটু পড়ে থাকলে সেটা দিয়ে সাধ মিটিয়ে নিতো। নেশার সময় হলেই চরম তেষ্টা পায়। এ তৃষ্ণা কোথায় জাগে পেটে, হৃদয়ে নাকি মাথায় গেটিস এখনও বুঝতে পারেনি। কিন্তু এ তৃষ্ণা জল তৃষ্ণার চেয়েও ভয়ংকর। তাই ওকে প্রতিদিন আসতে হয়।

     একদিন পল্টু, এক উঠতি নেতা, কয়েকটা বোতল হাতে নিয়ে মদের দোকান থেকে আসছিল। ও দেখে একটা ছেলে ওর দিকে চেয়ে আছে। পল্টু ইশারা করে খাবি। এক ইশারাতেই গেটিসের অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরিত হয়ে জিভে জল হাজির। গেটিস তৎক্ষনাৎ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়। পল্টু ওকে ডেকে ওর হাতে বোতলগুলো দেয়। তারপর বাইকে চেপে বলে, 'পেছনে বোস'। গেটিস ঐ যে নেতার পেছনে বসলো আর পিছন ফিরে তাকায়নি। মিটিং, মিছিল, ঝান্ডা বাঁধা, স্লোগান দেওয়া, মাইকিং করা একে একে  সবেতেই পারদর্শী হয়ে উঠলো সে।

           সামনে ভোট। খুব শীঘ্রই প্রার্থী বাছাই করা হবে। পল্টু ভোটে দাঁড়ানোর টিকিট পাওয়ার জন্য একটা ফন্দি এঁটেছে। কিন্তু সেটা গেটিসকে জানালো না। পরের রাতে পল্টু ও গেটিস পাশের গ্রাম থেকে মিটিং সেরে ফিরছিল। লোডশেডিং, ঘুটঘুটে অন্ধকাররাস্তা। পুলের কাছে পৌছাতেই আচমকা দু'জন লাঠিয়াল সামনে উপস্থিত। একজন পল্টুকে আঘাত করতেই পল্টু পড়ে যায়। গেটিস ভীষণ রেগে অন্যজনের লাঠি কেড়ে ওদের দুজনকে বেদম পিটুনি দেয়, ওরা কোনমতে পালিয়ে বাঁচে। 


        ফুচুর মা বলে, 'পায়খানা লাগছে কি? ফুচুর বাবা ঘরে আছে। তাহলে পাঠিয়ে দেবো।'

 - 'না, পরে যাবো। ভালো লাগছে না, আরেকটু ঘুমোব। তবে দেখবে যেন কেউনলকূপটা না নাড়ে। ওটা দিয়ে তো আর জল পড়ে না, তাহলে ওর উপর অত্যাচার কেন।' কথাগুলো জড়িয়ে যেতে যেতে গেটিস ঘুমিয়ে পড়ে। এদিকে ফুচুর মা ওর কথা শেষ পর্যন্ত না শুনেই বেরিয়ে পড়ে। দেখেরাস্তার ধারে নলকূপটা কেমন যেন একা পড়ে আছে। এক সময় এইনলকূপের ব্যস্ততার শেষ ছিল না। পুরো পাড়ার লোক সকাল সন্ধ্যা লাইন দিয়ে জল ভরতো। হোটেল, চা দোকানের জল যেত এই নলকূপ থেকেই। এর জলে ডাল খুব ভালো সিদ্ধ হতো তাই অন্য পাড়া থেকেও জল নিতে আসতো অনেকে। রাস্তার পথিকও জল নিত। আবার পাশের বাড়ি ঘোষদের সব্জি বাগান, মিত্রদের ফুল বাগানেও জল যেত এখান থেকে। ফাঁকা থাকলে অনেকে এইনলকূপের জল নিয়ে গাড়ি ধোওয়ার কাজও করতো। এটা খারাপ হওয়ার পর কেউ পৌরসভায় খবর দিল না। এরই মাঝে সবাই ঘরে ঘরে বোরিং করিয়ে স্বাবলম্বী হয় গেছে। দুষ্ট বাচ্চাগুলো ছাড়া আজ আর কেউ ফিরেও দেখে না।


        গেটিসেরও এক সময় বেশ কদর ছিল। গেটিসের সহযোগিতায় অনেকেই নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে নিয়েছে। সেই দিনের দুষ্কৃতি আক্রমণের ঘটনা গেটিস এমন প্রচার করেছিল যে পার্টি পল্টুকেই প্রার্থী বাছাই করতে বাধ্য হল। নির্বাচনের সময় গেটিস রাতদিন এক করে প্রচার করে ছিল। ও জানতো পল্টু জিতলে ওর একটা হিল্লে হয়ে যাবে। পল্টু শুধু নির্বাচনের জিতল তাই নয় মন্ত্রীও হল। কিন্তু গেটিসের কোন হিল্লে হল না। ওই দুইজন গুন্ডা যারা পল্টুকে মারতে এসেছিল আসলে ওরা পল্টুর নিজের লোক। আক্রমণটা পুরো সাজানো ঘটনা ছিল। পল্টুই ওদেরকে আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছিল। ওরা আজ মন্ত্রীর ডান হাত বাঁ হাত। গেটিসের অপরাধ পল্টুর ওই দুই সাগরেদকে বেদম প্রহার। পল্টুর দ্বারাই হোক বা স্বাভাবিক নিয়মেই হোক রাজনীতির লাইনে গিয়ে গেটিসের লাভ এই ইন্দিরা আবাস। মনে জোর ধাক্কা লাগায় গেটিস রাজনীতির আঙিনা ছেড়ে সাধারণ মানুষের সাথে সময় কাটাতে লাগল। যখন যে ডাকে তখন তার ফাইফরমাশ খেটে দেয়। বিনিময়ে কেউ খাইয়ে দেয়, কেউ দু-পাঁচশো ধরিয়ে দেয়, আর একটু অন্য রকম কাজ হলে মদের জোগানও পেয়ে যায়।


    একদিন হাসপাতালের এক নতুন নার্স সব্জী বাজার করতে এসে বাজারের কাদায় পা পিছলে পড়ে। গেটিস তখন পাশের দোকানের সব্জী সাজিয়ে দিচ্ছিল। ঘটনাটা দেখতে পেয়ে ছুটে আসে। কাদা থেকে দিদিমণিকে উঠতে সাহায্য করে। টুল এনে বসতে দেয়। পাশের ফেরিওয়ালার কাছ থেকে একটা গামছা এনে জড়িয়ে নিতে বলে। তারপর অটো ডেকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এই শুরু। এরপর মাঝেমধ্যেই দিদিমণির সাথে গেটিসের আলাপ চলতে থাকে। যা দেখে পথেখাটে বখাটে ছেলেগুলো পর্যন্ত দিদিমণিকে কোন কমেন্ট করতে ভয় পায়। বাইরে চাকরি করতে গিয়ে একা মহিলারা এরকম একজন লোকাল গার্জেন পেলে ভীষণ সুরক্ষিত বোধ করেন। এ দিদিমণিও তাই। আর গেটিসের জীবনে এই সুযোগ সোনায় সোহাগা। দেখতে দেখতে অনেক বসন্ত পেরিয়ে গেল। কিন্তু গেটিসের জীবনে যে এরকম গোলাপি বসন্ত আসবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তবে এর সমস্ত কৃতিত্ব দিদিমণির। তিনিই প্রথম প্রস্তাব দেন। গেটিস নিমরাজি ছিল। পরে অনেকের পরামর্শে ও রাজি হয়। ওরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে। ছোট পার্টি দেয়। গ্যাংটকে হানিমুন। চলছিল বেশ। চায়ের ঠেকে মাঝেমধ্যে উপমা হিসাবে গেটিসের সৌভাগ্যের কথা উঠে আসতো। হঠাৎ গেটিসের শান্তিপূর্ণ জলতলে জোয়ার-ভাটার আবির্ভাব। দিদিমণি ও গেটিসের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে লাগলো। অকারণ তর্ক, মনোমালিন্য কেড়ে নিল গেটিসের ঘুম। পানের অভ্যাস কমে গিয়েছিল, আবার বাড়লো। একদিন রাতে মদ খেয়ে কোয়াটারে ফেরার সময় গেটিসের ভিতরে সুনামির উদ্ভব। গেটিস দেখে ডাক্তারদের আউটডোর চেম্বারে আলো জ্বলছে। চাপা সংলাপও শোনা যাচ্ছে। গেটিস বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে দেখে ডাক্তার বাবুর সাথে ওর বউয়ের অন্তরঙ্গ দৃশ্য। রেগে দিক-বিদিক জ্ঞান-শূন্য হয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে চেম্বারের দরজায় লাথি মারে। চেম্বারে ঢুকে ডাক্তারের গায়েও হাত লাগায়। ডাক্তারবাবু নিজের বদনাম ঢাকাতে তৎক্ষনাৎ পুলিশে খবর দেন। মদ্যপ অবস্থায় অন ডিউটি ডাক্তারকে আক্রমণ করার অপরাধে পুলিশ গেটিসকে গ্রেফতার করে। নার্স দিদিমণি আর কোন যোগাযোগ করেনি। উল্টে ডাক্তারের সাথে ওর ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে। গেটিসের বিরুদ্ধে ডিভোর্সের মামলা করে। অবশেষে গেটিস জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর ডিভোর্স হয়ে যায়। 


       ফুচুর মা হঠাৎ নলকূপের আওয়াজ শুনতে পায়, 'এই কে রে? অকারণে নলকূপ নাড়ছিস?' অপরিচিত লোক দেখে তথমত খায় ফুচুর মা। 

       ওরা বলে, 'আমরা পৌরসভার লোক। এইরাস্তাটা একটু চওড়া হবে তাছাড়া এটা থেকে তো আর জল পড়ে না তাই এইনলকূপটা তুলে বন্ধ করে দেব।'

       ফুচুর মা গলার স্বর নামিয়ে বলে, 'ঠিক আছে করো। জোরে শব্দ করো না, পাশের ঘরে একজন রোগী আছে।' এই বলে ফুচুর মা গেটিসের ঘরের দিকে গেল। বেশ কিছুক্ষণ হল খোঁজ নেওয়া হয়নি। আমি আছি খোঁজ খবর নিচ্ছি, আমি অসুস্থ হলে ওর সেবা করার কেউ নেই। হে ভগবান গরীবের ঘরে এমন রোগ দাও কেন। ভগবানেরই বা কি দোষ, তিনি তো শরীরের সমস্ত অঙ্গ ঠিকঠাক বানিয়ে জন্ম দেন। আমরা নিজের দোষে অসুস্থ হই। অভাবের তাড়নায় বা স্বভাব দোষে শরীরের উপর নির্যাতন করে সেগুলোতে রোগের বাসা বাঁধতে সাহায্য করি। গেটিস নিজেকে অনেকটা শুধরে নিয়েছিল কিন্তু দিদিমণির বিশ্বাসঘাতকতা ওকে আবার জাহান্নামের পথ দেখিয়ে দিল। সকাল থেকে রাত অবধি মদ, মদ, আর মদ। আহার বলতে ঐ একটায় উপাদান। এভাবেই চলছিল। হঠাৎ একদিন স্ট্রোকের কারনেরাস্তায় পড়ে যায়। পৌরসভার লোক হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে পাড়ায় খবর পাঠিয়ে দেয়। গেটিস ঐ যে বিছানা ধরলো আর ছাড়েনি। ফুচুর বাবা এসে প্রতিদিন একবার বিছানা থেকে তোলে। আজ এখনো সেটাও হয়নি। এই কথা ভাবতে ভাবতে গেটিসের কাছে পৌঁছাল ফুচুর মা। 'গেটিস, এই গেটিস আর কত ঘুমাবি? ওঠ। গেটিস, এই গেটিস।' কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় ফুচুর মা দৌড়ে ঘরে গিয়ে ফুচুর বাবাকে নিয়ে এলো। ফুচুর বাবা দেখে বুঝতে পারে, এ নির্ঘাৎ মারা পড়েছে। বাইরে এসে পৌরসভার লোকদের জানায়। ওরা ভেতরে এসে দেখার পর পৌরসভার অফিসে ফোন করে। একটু পরে ডাক্তার গোছের একজন এসে গেটিসের নাড়ি দেখে, হৃৎস্পন্দন বোঝার চেষ্টা করে। কিছুই না পেয়ে তিনি বলেন শেষ।  পৌরসভার লোকগুলোকে বডি তুলে শ্মশানে নিয়ে যেতে বলে। 


      কিছুক্ষণ পর শববাহী গাড়ি এলো। পৌরসভার লোকও নলকূপের যাবতীয় সামগ্রী তুলে নিল ওদের ঠেলায়। গেটিসের দুয়ার থেকে একই সাথে দুটো মরদেহ বেরিয়ে গেল।



*******************************************************************************





                      পার্থসারথি মহাপাত্র


পার্থসারথি মহাপাত্রের গ্রন্থসমূহ–

১) 'বড় মুকরুর ছা' (মানভূমী কবিতা)

২) ক্ষুধার স্পর্শে বর্ণমালা কেঁপে যায় (কবিতা)

৩) পোয়াতি মেঘ (এক পংক্তির কবিতা)

৪) অল্প কথার গল্প (অণুগল্প) 

৫) নীরবতার অধ্যায় (কবিতা) ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন