বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

জবা ভট্টাচার্য

 




জবা ভট্টাচার্য * দুটি কবিতা






অনন্তের পথ


  এই শান্ত, নির্জন রাস্তা দিয়েই

  কোনো এক ব্রাহ্ম মুহূর্তে

  বাবাকে নিয়ে ফুলে সাজানো

  গাড়িটা চলে গিয়েছিল।


  তখন আমি স্পষ্ট

  রাস্তাটার কান্না শুনেছিলাম

  মায়ের  হাহাকারের  মতো।


  তারপর থেকে,

  বাবার হারিয়ে যাওয়া পথ ধরে

  মা আর আমি বারবার  হেঁটে গিয়েছি

  রোদ ঝলমল, বৃষ্টি ধোয়া,  হাওয়াসচল

  রাস্তা দেখার নেশায় বুঁদ হয়ে।

                     পাইনি

  দিনমানেও, রাস্তাটা জুড়ে এক অদ্ভুত  আঁধার যাপন ।




 








একটা খারাপ ছেলের গল্প


  ছেলেটাকে সবাই চেনো---

  আধুনিক সভ্য সমাজের অর্জুন রা যখন নির্বিকার অচল

  তখন সে ছেলে উদ্দাম, উচ্ছৃঙ্খল,লাগামছাড়া দামাল।

  ভালো মানুষের দল,তীব্র  শ্লেষে আড় ইশারায় বলো

  পাক্কা বদমাইশ  একটা।

 

  সবাই যখন ধর্ম বকের ছদ্মবেশে জীবন চালায়

  ভালো ছেলের দল, বইয়ের  সাথে  কুস্তি লড়ে

  কবিতা লেখে অবসরে, ভারি গলায় গান ধরে

  তখন তুই, বেমালুম বেপাত্তা-- গোপনে বিয়ে

  দিয়ে এলি--ইকবাল  ঈশিতার, বিদ্বজ্জনের

  রোষের মুখে বললি--শাস্তি দিতে হলে আমায় দাও,

  ভালোবাসত ওরা--দুটো জীবন নষ্ট  হবে নাকি?


  মিনুর সদ্য কৈশোরের পাপড়িগুলো তেলিপাড়ার মাঠে 

  যারা নির্মম ভাবে ছিঁড়ল, তাদের সাথে মারামারিতে

  জড়িয়ে পড়ে--- তিনশো সাত, খুনের চেষ্টার অভিযোগে

  পাক্কা পাঁচ হপ্তা কাটিয়ে এলি জেলে

  অথচ মেয়েটাকে তুই চিনতিস ও না,

  বাড়ির পাশের বস্তির ময়না বুড়ির নাতনি

  বুড়ি কাঁদছিল আছাড়িপিছাড়ি

  ব্যাস্  এইটুকুই---


  অনির বোনের প্রসব বেদনা উঠল মাঝরাতে

  অনি বিদেশে চাকরিসূত্রে, ওর ভালো ছেলে

  বন্ধুদের মুঠোফোনগুলো  বোবাকালা

  নিকষ কালো অন্ধকার ঠেলে তুই  এলি--তুই ই

-- চল বোন, বাইকের পেছনে আমাকে শক্ত করে ধরে বোস।


   কালচারের জামা পরা  ভালো ছেলে না,

   খারাপ  হয়েই তুই থাক

   আজ তোর মত খারাপ  ছেলেই  চাই।

   আঠালো জ্যোৎস্নার গাঢ় অন্ধকার ঠেলে

   ভোর আনতেই দরকার

   তোর মত হৃদয়বান  বদমাইশ।



**************************************************************************



জবা ভট্টাচার্য

জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা সবটুকুই  কলকাতায়। বিবাহ সূত্রে  উত্তরবঙ্গে আসা। ভালোবাসা থেকে লেখালিখি করা। এ পর্যন্ত  সাজি, মান্দাস,  বিবর্তন, সহ বহু ছোট বড়ো লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত  হয়েছে। নিজের  দুটি কবিতা সংকলন  আছে "মাধুকরী  মন" এবং “এক টুকরো ডাঙা”।


সুশান্ত সাহা





সুশান্ত সাহা * দুটি কবিতা 







বর্গী এলো 


অনেকদিন  পর আমার দেশে 

বর্গীরা ফিরেছে ۔۔

বাইরের কেউ  নয় 

আমার দেশেরই তারা ۔۔

ধানের গোলার চারপাশে 

মা আমাদের নিয়ে  পাহাড়া 

দিচ্ছে 

অনেকদিন পর চোখের  জল 

বৃষ্টি হয়ে ঝরছে













শেষ বেলায়


বিকেলের  পড়ন্ত  রোদের ছায়ায় 

মেলাচ্ছি বাবার মুখ 

মায়ের মুখ দেখি হাজির জ্যোৎস্নায় ۔۔۔l

তারপর আমিওতো হবো ছায়াছবি ۔۔۔

মেলাতে আসবেকি কেউ ۔۔?

প্রজন্মর  পর প্রজন্ম আঁকড়ে পরে আছি ۔۔۔

বাবা বলতেন এই দুঃখের থেকে 

সুখের গন্ধ পাবি আগামীর ۔۔l

কিন্তু আগামীতো তথ্য প্রযুক্তিতে ভরপুর এক নির্বাক দলিল l

কি করে বুঝবে  ওরা প্রজন্মের বারি ধারা ۔۔

সুখের অন্নেষণে দুঃখ  ছায়াময় 

ওসব কিচ্ছুনা কিচ্ছুনা ۔۔۔




**************************************************************



 সুশান্ত সাহা


লেখক পেশায় ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার ۔এয়ারপোর্ট অথরটি অফ ইন্ডিয়া তে  কর্মরত ছিলেন l ছোটবেলাথেকেই মায়ের হাত ধরে লেখালেখি শুরু ۔۔এরমধ্য দুটো কাব্য গ্রন্থ (শব্দের শিবিরে ও হাওয়ার আড়ালে শব্দের ধ্বনি )ও ছড়ার বই  "ছড়ায়  ছ ড়ায় হাতকড়া "বহু প্রসংশা অর্জন করেছে l এর মধ্যে বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন ,তার মধ্যে" মঙ্গোল দীপপত্রিকার বিচারে " হাওড়া গৌরব সন্মান ,2024"ও বঙ্গ ভূমি সাহিত্য পত্রিকা "বঙ্গভূমি রত্নসন্মান 2025"আন্তর্জাতিক হিউমান রাইট স সোসাইটি দ্বারা নির্বাচিত(পশ্চ্চিমবঙ্গ )  "মানবিক সেরা বাংগালি নাগরিক সন্মান "বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্গ্য 


হামিদুল ইসলাম




 

হামিদুল ইসলাম * দুটি কবিতা 









হা ঈশ্বর


দুপাড়ে সবুজ ধানক্ষেত 

মাঝে ব্যাকুল আত্রাই 

উপেক্ষিত দুপুর 

বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় প্রাচীন শহর।


ক্ষুধার্ত শিশু আজও পান করে 

জোসনার স্তন।


গভীর তৃষ্ণা নিয়ে ফিরে যায় হরিণ 

পেরিয়ে যায় বেলাভূমি 

দাবদাহে পোড়ে পিপাসার নদী 

নেভে না ঝলসানো আগুন।


হাহাকার করে প্রিয় হৃদয় 

ধর্মান্ধরা প্রতি মুহূর্তে বিভাজন করে মানুষ 

রক্তাক্ত আমার দেশ।


জনম জনম হাজত বাসে মরে যায় 

কতো বিবেক কতো মানবিকতা 

ঈশ্বর মূক ও বধির।














বেনামী বন্দর 


অস্পষ্ট যেনো মুখটা 

অস্পষ্ট যেনো ক্লান্তি আর আক্ষেপ 

তবু সন্ধ্যে নামে 

মেয়েটি থমকে দাঁড়ায়।


অন্ধকার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে 

অহল্যা রাত্রি 

গা ছুঁয়ে দ্যাখে না কেউ 

ভিজে ওঠে খিদের কাজল 

ইচ্ছেগুলো মরে যায় অনায়াসেই।


কথাগুলো মরে যায় 

মেয়েটি ফিরে আসে না আর 

বেনামী বন্দর ডুবে যায় বিষাদ কবিতায়।



******************************************************************************



হামিদুল ইসলাম

জন্ম পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি। ছোটোবেলা থেকেই লেখালেখি। স্কুলের একটি ম‍্যাগাজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশ। কলেজ লাইফে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় অনিয়মিত লেখালেখি। স্নাতকোত্তর শেষে একটা ছোটো কাজ। লেখা নেশা। রক্তের সাথে মিশে আছে । এ যাবৎ এগারোটি একক কাব‍্যগ্রন্থ---- @ হৃদয়ে তুমি @ প্রথম কদম ফুল। @ কেষ্টপুরের কেয়া মল্লিক। @ এই সময় অস্থির সময়। @ রমা রায়। @ শব্দে সাজাই কবিতা।@ বেলাভূমি। @ ঈশ্বরের হৃদয়ে জলের শব্দ। @ নীল সমুদ্র। @ অতল জলের বসত। @ বলয় গ্রাস। 

তিনটি ই কাব‍্যগ্রন্থ। @ এখানে আকাশ।@ হৃদয়ভূমি @ আরশিনগর। এছাড়া আছে বেশ কিছু অপ্রকাশিত নাটক ও উপন‍্যাস। 


লিটন শব্দকর

 




দুটি কবিতা * লিটন শব্দকর 








বাদামি হরিণের গ্রাম


দায় হালকা হয়ে ভেসে ওঠে ভাঙা দেওয়ালের ফাঁকে

বাতিল কাগজের ভাঁজে এখন হরিণের শরীরের গন্ধ 

ছড়াই অচেনা দাগ, আঙুলে লেগে থাকে মাটির রঙ

জেনে যাবে একদিন, এই বাদামি ক্ষতও ভাষা খুঁজে 

নেয় তামাটে সঙ্গোপনে ; শুকোয় দেবদারুর পাতায়

উপহার হয়ে ফিরে আসে ভুলতে বসা ঘাসের শিশির

অন্তর্গত শব্দেরা একটিই বৃত্ত এঁকে যায় শূন্যের গায়ে

অসন্তুষ্ট ভুগোলের গ্রামগুলি নীরবে পুনর্লিখিত হয়












আমাদের দেবদারু গাছগুলি


আমাদের দেবদারু গাছগুলি বড় হচ্ছে—ধীরে, নিঃশব্দে,

সময়কে পিঠে নিয়ে মেপে নিচ্ছে নিজেদের উচ্চতা।

নিছক বৃদ্ধি নয়—মাটির গভীর থেকে ওঠা এক বাহাদুরি,

ঝড়-রৌদ্র পেরোনো আত্মবিশ্বাস।

কুড়ুল-কাটা কাঠের গন্ধ ভেসে আসে—

অদৃশ্য হাতের ছায়া ঘুরে বেড়ায় জনপদে।

দূরে দেউল—অর্ধেক ভাঙা বিশ্বাস,

স্থির থাকা কি বেঁচে থাকা—এই প্রশ্নে দাঁড়িয়ে।

বীতশ্রদ্ধ হাওয়া ডাল নাড়ে,

খরা নামে ভাষা ও স্পর্শে।

তবু দেবদারু বড় হয়—

নিঃশব্দ এক প্রতিবাদের মতো।













***************************************************************************************************************




 লিটন শব্দকর

ঠিকানা: উত্তর ত্রিপুরা, ধর্মনগর শহর  শিক্ষা : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : অরণ্যলিপি সম্পাদক : আনন্দবার্তা সাহিত্য পত্র

প্রজোতি গড়াই





প্রজোতি গড়াই * দুটি কবিতা







ক্ষমতার পশু

 

আজ সৈনিকেরা বড্ড ক্লান্ত—

যুদ্ধের ধোঁয়া বুকে নিয়ে তারা দাঁড়িয়ে থাকে নীরব পাহারায়।


চিন্তায় ডুবে থাকে তাদের ঘর,

দূর কোনো জানালায় হয়তো কেউ অপেক্ষা করে নিঃশব্দে।


সহ্য করতে করতে আজ ক্লান্ত সাধারণ মানুষ,

ভয়ের ছায়ায় কাঁপে শহর আর গ্রাম।


কখন যে আকাশ ফেটে নামবে আগুনের বৃষ্টি—

এই আশঙ্কায় নিঃশ্বাস নেয় দেশ।


আজ আকাশ বড্ড নিশ্চুপ, নিরীহ,

তাই তাকে দখল করা বড় সহজ।


যেমন সহজ মানুষের মন দখল করা,

ভয় আর ঘৃণার কালো ছায়া দিয়ে।


যুদ্ধ হয় রাজাদের অহংকারে,

কিন্তু ক্ষত বয়ে বেড়ায় প্রকৃতি আর মানুষ।


রাজা, তুমি কি জানো কত নামহীন মানুষ মরে?

না কি জানতে চাও না— কারণ তুমি মানুষ নও, কেবল ক্ষমতার পশু।












আমি ঋতুচক্র


মাঝে মাঝে আমি বসন্তের পলাশ—

শহরের বুক জ্বালিয়ে দিই আগুনরাঙা স্বপ্নে,

আমার রক্তিম হাসিতে

দেয়াল ভেঙে পড়ে,

পুরনো ভয় ছাই হয়ে উড়ে যায়।


মাঝে মাঝে আমি শীত—

নিঃশব্দ, ধূসর, দীর্ঘশ্বাসের মতো ঠান্ডা,

আমার স্পর্শে কেঁপে ওঠে জানালার কাচ,

মানুষ নিজের ভেতরেই খুঁজে ফেরে

হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা।


মাঝে মাঝে আমি হেমন্তের ভোর—

শিশিরভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটি,

প্রতিটি বিন্দুতে জমা রাখি

অপ্রকাশিত ভালোবাসা,

যা সূর্য উঠলেই মিলিয়ে যায়,

তবু থেকে যায় স্মৃতি হয়ে।


মাঝে মাঝে আমি শরতের হিমঝুরি—

নির্মল আকাশের নিচে এক মুঠো সাদা নীরবতা,

আমার ভেতর দিয়ে ভেসে যায় মেঘ,

আর আমি শিখে নিই—

সব ছেড়ে দিয়েও কেমন করে হালকা থাকা যায়।


মাঝে মাঝে আমি বর্ষার শাপলা—

জলের গভীরে শেকড়,

মাথার উপর কচুপাতার ক্ষণিক আশ্রয়,

ঝড় এলেও ডুবে যাই না,

শুধু ভিজে উঠি আরও গভীরে।


আর মাঝে মাঝে—

আমি রুদ্র প্রখর তাপ,

দহন আমার ভাষা,

অন্যায় দেখলে সূর্যের মতো জ্বলে উঠি,

পুড়িয়ে দিই মিথ্যার আবরণ।


আমি একরঙা নই—

আমি ঋতুচক্রের মতো পরিবর্তনশীল,

আগুন, কুয়াশা, শিশির, ঝড়—

সবই আমার ভেতরের আলাদা আলাদা সত্য।


আমি ভাঙি, আমি গড়ি,

আমি পুড়ি, আমি ফুটি—

আমি মানুষ,

আমি অনন্ত রূপে নিজেকেই লিখে চলি।



*******************************************************



প্রজোতি গড়াই 

কৃষ্ণনগর, নদিয়া থেকে লিখছেন।


প্রবীর কোনার






প্রবীর কোনার * দুটি কবিতা 







কেউ বোঝে না


বিরল জাতের একখানা মেঘ,অন্যরকম

তালগাছেরা এমন সময় হেঁট করে ঘাড়

আমার পাড়ার যে মেয়েটি তোমার মতন

মেঘের দেশে সেই মেয়ে হয় ভাষ্যকার। 

বৃষ্টি কাতর নদীর তীরে রওনা দিলাম

সেই মেয়েটি খুব জানে গো মেঘের খবর

আকাশ থেকে অসংখ্যবার মেসেজ পেলাম

তৃষ্ণা ভারে গান হয়ে যায় তোমার শহর। 

শেষ চিঠিতে বানান ভুলের বদভ্যাসে

হয়তো তুমি ঠাহর করো বিদ্যে আমার

সময় যখন ফুলের তখন নানান বেশে

সব ঋতুরাই ইচ্ছে জানায় স্বপ্ন বোনার। 

যে পথেরা মোড়ের আগেই ভীষণ মরে

গায়ে ধুলো দুঃখ রঙের এক কাহিনি

যে পোড়া দাগ কাঠের উনুন আড়াল করে

তোমার মতো কে বোঝে গো কমলিনী? 











ঝড় এক সমাজকর্মী 


আজকাল ঝড়ও সামাজিক

আগে থেকেই চলে আসছে সে দরদী মন নিয়ে

উঠোনে পিঁড়ি রাখতে ভুলে যায় মা

হয়তো কিছু লক্ষ্য করেছে, হয়তো কিছু নির্দিষ্ট গুণ তার

কাউকে বলিনি আমি, কী মনে হল একবার রাস্তার দিকে যাই

ধুলো,দুঃখপাতার যানজট ঝড় এসে না সরালে

তার তৃষ্ণার্ত মুখে কে জলপথ গড়ে দেবে বলো

গাছই বা কী করে দেখাবে তার বকুল হাসি

ঘরের গুমোট বাতাসে শ্বাসকষ্ট হয় আমাদের

শরীর খারাপ লেগেই আছে সবার একরকম

সন্ধে কাশি, রাত জাগরণ, স্বল্পমেয়াদী মেঘ 

আজ যেভাবে ঝড়টা এল আর খিড়কি দরজা দিয়ে টেনে 

নিয়ে চলে গেল ভাড়াটে বাতাসটাকে

আমার খুব শীত শীত করছিল তখন

তারপর থেকে আর কালবৈশাখী নামে ডাকিই না ঝড়কে

ঘরে বাইরে সে আজ সমাজকর্মী।













***********************************************************




প্রবীর কোনার

জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার রামবাটী গ্রামে । পেশায় শিক্ষক । সাহিত্য তার কাছে অবসরের শুশ্রূষা ,তার নিকটতম উপশম । 


নিমাই জানা

 




নিমাই জানা * দুটি কবিতা


(১) নকি চকলেট , ধিক্কার ক্যাভিটি, সমুদ্রের মারমেড ও গন্তব্যের ওষ্ঠ দাতব্য শালা 

ট্রাই নকি চকলেট (ইনডালজ ইন দ্যা এক্সপিরিয়েন্স)ফ্লেভার আইসক্রিম মুচমুচে ক্রাঞ্চি অ্যানালগ ট্রান্সফারমেশন ১৮ টা রিপুর মেদ ভর্তি বালিশ সুরভী গাভির মতো হিক্কা তুলছে , কিম্ভুত কিমাকার রবার্ট ক্রোয়েল কালো ওভার কোটেট শুঁয়োপোকার রোমের থেকে আরও কর্কশ মাথার ভেতর থেকে লম্বা হাইড্রেন বয়ে যাবে গন্ধযুক্ত ঋতুস্রাব ক্যানেলের দিকে , ফসফরিক জিভের ভিতর অতৃপ্ত আত্মার টেস্টটিউব ক্লিনিক্যাল বাতাসের ওষ্ঠ ফুঁ ক্যাভিটি মেদ পুরাণ মৎস্য রহস্য মারমেড দাতব্যশালার পাকস্থলী রস তাদের কসমিক রেডিওথেরাপির নগ্ন চতুর্দশ দিনের অ্যালুমিনিয়াম বোল্ডার ভাঙ্গা খাদান গর্তের বক্সাইট মাথা খনিজ হাড়গোড় পিতাস্রাবের ধূসর মরচ পেরেক ও চুম্বনের মাত্রাতিরিক্ত ভালগারিস খেতে খেতে নখ দর্পণে নামবে তিনটা বাল্মিকী অষ্টাদশ সম্যক ৩ টা পাবলিক টয়লেটের ব্লেড ১৮ টা জনিতৃ যজাতি লাল চর্মিল প্রেত মেদ বর্জিত অপ্সরা মদন লেহনের চুম্বক আর থার্মোস্ট্যাটের চৌকা কফি কালারের অ্যান্টি লেভার্ট ব্যাগ পাইপার বেগুনের নীল কস্টিকাম বেলুন উড়ছে ফোবিয়া বিদীর্ণ করে আসা ঘর্মাক্ত রুক্মিণীদের মতো , হি হি করে হাসবো জাহাজ থেকে নামবো আর পাতলা গারদের বংশ ও ধর্মাত্মক অপ্সরাদের টার্গেট রাফায়েল এনালগ হিস্টামিনের চাবুকের শিফন বিবর্জিত পাতলা ক্যাভিটির মাথার মগজাস্ত্র নিয়ে ঢুকে যাব সুচারু গাড়ির ছোট্ট আঁশটে পাটাতনের নিচে , বদ রক্তের মতো আমার লালা বেরোবে আমি উলঙ্গ হয়ে মহা ভৌম অমরাবতীর পাড়ে ক্লীব দেহের বিনিময়ের ক্রসিংওভার আলট্রাস জেন্ডারের লাইট ক্রোমোজোমাল ম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি ইউরেনিয়াম ডার্ক ব্রেসিয়ারের ইমোজি শক্ত রন্ধ্রমূলে গেঁথে দেবো সবুজ বহুমুখ বিশিষ্ট পাতলা আঁশের সাপের নেবুলা স্টেশনের অষ্টাদশ গিমিক ও মিস্টার রিলেটিভ প্লানেটরিয়ামের গ্রহাণুপুঞ্জের মৃতদেহ , আলট্রা প্রোটোনিক ফিউশনে ধ্বংস হয়ে যাব নিজেদের পাতলা পাতলা ঔরস কাঁচের কেবিনে বন্ধ রাখব মর্গের ড্রয়ার খুলে হাইড্রো ক্যাফের ফালাফালা করে কেটে নেব এক একটা নীলোৎপল যৌনাঙ্গের আদিম মাংস মাথা , আমি নরম অন্ধকারে নিজের তৈলাক্ত মৃতদেহকে টেনে টেনে নিয়ে যাব মাথার ওপরে রাখা জন্মান্ধ প্রতিবন্ধী হাড়গোড় ও সারভাইকাল ক্যান্সারের অতি ধর্মাত্মক ব্যাকটেরিয়াদের নিয়ে , পাপিষ্ঠ হয়ে যাব , খয়েরি কালারের ৫০০ মাইক্রো গ্ৰাম গালার নীলাভ সেগুন গাছের তৈরি খেয়াকাঠের নিচে ঝুলে থাকা লম্বা ছাগলের প্যাকেটজাত রক্তাক্ত স্নেহজ পদার্থে কুম্ভ শাস্ত্রের প্যাকেট দিয়ে মোলেস্টেট করাব হোটেলের পরিচারিকার পা-দানি নিয়ে, সবাই জানে ১৮ টা মৃত্যুর দিনে এক একটা আততায়ী মেপে নিয়ে গেছে আমার গলা ও তলপেটের মাপ , শ্মশানের নিভন্ত উপ্ত ঈ কার বীজ সারিবদ্ধ হয়ে শুয়ে আছে ভেক্টর অনুৎপাদিত দ্রাক্ষা চুল্লির সময়োপযোগী বাণপ্রস্থের গোলার্ধ শুন্য কাকতালীয় লিভ ইন ফার্মেন্টেশন নিয়ে , হ্যালুসিনেশন ট্রুথফুল চুল্লির কাছে অপরিশোধিত সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে নীল সেন্সরের অপ্সরা নাভির গর্তে লুকানো তিনটি অনুৎপাদিত শুভ্রাংশু দানাদার জিন কাফ সিরাপের টেস্ট টিউব , ২৫০ গ্রাম বেবি টিউবে জন্ম নিচ্ছে আই ভি এফ কুন্তীর স্যাবোটেজ টিউমার 





(২) চিরহরিৎ কেটামিন , পায়ুদ্বারের ঘা ,ৎ মার্কা আইব্রো বিষাদ ও সোশিওলজিক্যাল চর্মরোগের ভ্রুণ

নিষিদ্ধ ত্রৈলক্য আজির জরা জায়ফলের মতোই আর্ত চিৎকার করো হে দানব , পুরুষ দানবের গোপনীয় কাষ্ঠফলকে লিখেছে নিষিদ্ধ খরোষ্টি লিপির তম ষোড়শ , হড়হড়ে চর্মরোগের নিচে হলুদ অপ্সরারা অক্সিজেন টিউবে পুঁতে দিচ্ছে হিমোচুরিয়া রক্তস্রাবের নগ্ন পায়ুদ্বার কণিকার ঘা , গোপনীয় বায়ুর ইঙ্গিতে ফেলে ফেলে যাচ্ছে অপ্সরাদের নারী দাতব্যের অমরাবতী উৎসর্গ কথা , উৎকীর্ণ নশ্বর নাগকেশরের হিমায়িত চাবুক এই গন্ধর্বের উপকূলে লালা ফেলে যাচ্ছে মহীশূর ও মহিষের জঘন্য ভ্রুণ কেতু রাক্ষসের দাঁতের মতো আমার কারখানায় চিৎকার করছে অন্ধকার ভয়ানক কাকের পরজীবী শবদেহ টানেল , সান অ্যাটাক সোসিওলজিক্যাল ঘুম রহস্যের ডানা কাটা জন্তু গুলো নীল করিডোরের শ্বেতাঙ্গ ভ্রুণের জঘন্য বিষবাষ্প উড়বে কালো কার্বনেটেড ফ্লেভারের জলের সুষুপ্তি কেটে যাবে , আমি পরিনাম দুঃখ আর সংশয় দুঃখের শোকসন্তপ্ত নষ্ট সেলুনে বারকোড ঘষে ঘষে পাতলা মূত্রত্যাগের মতো রেডিও নিউজ কেচিয়ান পার্লার থেকে বের করে আনব আই ব্রো কোটির নীলাভ তপস্বিনীদের পেটিকোট, ছিঁড়ে পড়বে লা লা (+.০৫ cm ) ইলাস্টিক কামিজ এন এক্স টি ফিজিওলজিকেল থার্মোমিটারের থেকেও ভয়ানক সুড়ঙ্গ খুঁজে আমি মৃৎ পাথরের মতো মৃতদেহের সারা শরীরে পুঁতে দেবো লাল মরীচিকার অর্ধেক বীজ , এসো জাহান্নামের তৃতীয় দরজার অন্ত্যোষ্টি নাগরিক বিষাদ সমগ্র , ছায়া মূর্তিটাকে পোড়াতে পোড়াতে আমাদের ক্রমশ অতি বিবর্ধিত জ্বালানি শেষ হয়ে যাচ্ছে নীল স্বর্গীয় রাক্ষসীনীদের সাত্ত্বিক পাখি জেগে উঠছে বলাৎকারের প্রতি বৃদ্ধি নেই মাকড়সা ও তাদের জ্বলজ্বলে লাল রেডিয়ামের চোখের উপরে দাঁড়িয়ে উইচি সেলাইফা মাখিয়ে বিক্রি করছে গম কারখানার হড়হড়ে অ্যান্টি গনোরিয়ান ক্যাপসুল , আমাদের সব শংকর্ষণ ধাতুর লালা কাটছে অতি ধাতব মেরুপৃষ্ট ঋষির চৌম্বকীয় ব্লেড ও ঘর্ষণ তড়িৎ এর অস্থিতিস্থাপক নৌকার জাহাজি বাদাম , ফার্স্টট্র্যাক হয়ে যাও তেল কারখানার নাবিক মারণাস্ত্র ফেলে দাও সাপেদের চুম্বক পেনিস বিক্রি হোক তার বীজদানা দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক লৌহ পাললিক অতি কীর্তন পুষ্যশৃঙ্গ ও রোহিতাশ্ব দর্পণ পাহাড় শিবালিক মাগধীতন্ত্রের রাক্ষস পৌরস , আমি কালো পিচের মতোই বিক্রি করছি সাদা রঙের শ্মশানের আধপচা ডোম প্রতিকৃতি, এসো হরমুজ বিথীকার অম্বিকা প্রণালী, তিনবার শ্মশানের চৌকাঠে লালা মাখিয়ে অষ্টাদশ ধ্বংসাবশেষের নিচে অতি কুব্জ অবস্থায় প্রাপ্ত ধৃতরাষ্ট্রের সুগন্ধি সম্ভোগ পদার্থ তৈরি করছেন গুপ্তচর তিনকোনা লম্বোদর আর তিনটি প্লাঙ্ক থিওরিটিক্যাল হিস্টিরিয়ার ম্যাগপাই গাছ ,শ্বেতাম্বর উট গুলো জাহাজের কাঠ স্টিল নিয়ে তড়িৎ আবাসনের নগ্ন ফার্নেস দিয়ে টিউব্যাকটামি করাচ্ছে অ্যান্থ্রোপলজিক্যাল কেটামিন দিয়ে 




*********************************************************************************************




নিমাই জানা

 এ সময়ের অন্যতম শক্তিশালী তরুণ কবি । রুইনান সবং পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে লিখছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :  ছায়ার মূলরোম ও  নির্জন পুরুষ অসুখ * জিরো কম্পাঙ্কের পেন্ডুলাম * ঈশ্বর ও ফারেনহাইট জ্বরের ঘোড়া * ইছামতি ঈশ্বরী ও লাল আগুনের ডিম্বকোষ * রজঃস্বলা বৃষ্টির গুণিতক সংখ্যাগুলো * ব্যাবিলনের চাঁদ * জাহান্নামের বাদাম গাছ   







তুষার ভট্টাচার্য

 





তুষার ভট্টাচার্য * দুটি কবিতা 

দয়াল  দাও বেঁচে থাকার মন্ত্র



তারপর হেমন্তের রাত কুয়াশায় ডুবে গেলে ঘুমোনো দিগন্ত চরাচর
 ম্রিয়মান একফালি মেঠো চাঁদ এসে ঝুলে থাকে জানালায়
আর তখনই মনের আয়নায় জেগে ওঠে
অজানা মৃত্যু ভয়;
'চলে যেতে হবে  চলে যেতে হবে '
এই  মর্মর গান শোনায় বটের হলুদ ঝরা পাতা;
চলে তো যাবোই 
তার আগে চুপি চুপি শৈশবের সহচরী নদীর কাছে যাই
শান্ত নদী জলে ভেসে ওঠে  যে ভাঙাচোরা ক্লান্ত  মলিন মুখ সেতো আমি নই
  তবু কেন অচিন মরণ ছায়া  জল থেকে  উঠে  এসে  পোড়া হাত  তুলে ডাকে আয় আয় 
 শেষ পারানির কড়ি দিয়ে এই অকালে কেন  চলে যাব শ্মশান যাত্রায়?
দয়াল  -আমাকে শুধু দাও বেঁচে থাকার মন্ত্র আয়ুধ l





ভালবাসার দিনগুলি রাতগুলি

 
ধরা যাক আবার ফিরে এল ভোরের কৈশোরের  স্বপ্নীল ভালবাসার সেইসব দিনগুলি রাতগুলি
তখন  কৃষ্ণকলি সই তুমি কী  আর  আমার সঙ্গে যাবে ভেসে প্রেম যমুনায়?
মায়া চাঁদের রুপোলি আলোয় ভিজে জেগে ওঠা  দুঃখী হৃদয়ের উঠোনে
আরেকবার শুধু তোমাকে ফিরে পেতে চাই  সই
দু'জনে ডুব দিতে চাই নদীর অতল গহন গভীর জলে;
'ভালবাসার জন্ম আছে  কোনও মৃত্যু নেই'
বাউল প্রেমিক আমি এই ধ্রুব সত্য মেনে আজও চেয়ে থাকি নীরবে পথপানে
যদি আবার কোনওদিন  উঠোনের ঘাসে
ফুটে ওঠে আলতা পায়ের পদচিহ্ন l





*******************************************************************************************************



     তুষার ভট্টাচাৰ্য


তুষার ভট্টাচাৰ্যর জন্ম ১৯৬২ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে l স্নাতকোত্তর পাশ  ( কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়  ) সরকারি কর্মী l দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লেখেন l সিগনেট প্রেস থেকে ২ টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে l